স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যেন ক্যাপ্টেনহারা এক জাহাজে পরিণত হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট থেকে সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়া অফিসে আসছেন না। আজ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা ১৬ দিন তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকায় সংস্থার অভ্যন্তরে চলছে চরম অস্থিরতা ও তুমুল সমালোচনা।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা এলজিইডি দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে নগরায়ণ ও আধুনিক শহর উন্নয়নের প্রায় দেড় শতাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আরবান, নগর এবং পানি ব্যবস্থাপনা—এই তিন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটি। প্রতিদিন শত শত টেন্ডার অনুমোদন, ঠিকাদার নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি, কর্মকর্তাদের বদলি ও অন্যান্য প্রশাসনিক ফাইল অনুমোদনের দায়িত্ব প্রধান প্রকৌশলীর হাতে থাকে। কিন্তু প্রধানের অনুপস্থিতিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এলজিইডি।

অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলীর অনুমোদন ছাড়া জেলা পর্যায় থেকে আসা কোনো ফাইলই অগ্রসর করা যাচ্ছে না। ন্যূনতম ২০ জন প্রকল্প পরিচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়া কোনো কাজ এগোয় না। শত শত ফাইল জমে গেছে। পুরো সংস্থাই স্থবির হয়ে আছে।”
এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের পঞ্চম তলায় প্রধান প্রকৌশলীর অফিসসহ প্রশাসনিক শাখা থাকলেও বিগত কয়েক দিনে সেখানেও খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো সিনিয়র কর্মকর্তাকে।
জানতে চাইলে অনেকে বলেছেন, “স্যার মন্ত্রণালয়ে।” কিন্তু এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে গত ১০-১২ দিন প্রধান প্রকৌশলী সেখানে যাননি। উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সহকারীও একই তথ্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিশ্বস্ত এক সূত্র দাবি করেছে, রশীদ মিয়া প্রতিদিন সকাল ১০টার দিকে অফিসার্স ক্লাবে যান এবং সেখানেই গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। সূত্রটি আরও জানায়, সেখানেই উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে তার কথাবার্তা হয়।
এ দিকে আজ রবিবার (৩১ আগস্ট) রাত ১২টায় আব্দুর রশীদ মিয়ার চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তিনি দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য তদবির চালাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিব রাজি না হওয়ায় তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এক্সটেনশনের চেষ্টা করছেন।
একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফাইল অনুমোদন নিয়ে চলছে ধোঁয়াশা— কেউ বলছেন অনুমোদন হয়েছে, আবার কেউ বলছেন এখনো হয়নি।
উল্লেখ্য, মো. আব্দুর রশীদ মিয়া গত ছয় মাস ধরে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে (চলতি দায়িত্ব) আছেন। পদটি প্রথম গ্রেডের হলেও তিনি এখনো তৃতীয় গ্রেডে রয়েছেন। এর আগে তিনি তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে এই পদে নিয়োগ পান। এবারও এক বছরের এক্সটেনশন হলে আরও তিনজন কর্মকর্তা পদোন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
সংবাদচিত্র ডটকম/জাতীয়
